Translate

Monday, April 5, 2021

আম-পুদিনার শরবত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

আম-পুদিনার শরবত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

আম-পুদিনার শরবত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
কাঁচা আম সকলের কাছেই পছন্দনীয় এবং খেতেও সুস্বাদু। আচার, ভর্তা, শরবত বিভিন্নভাবেই খেতে এটি সমান জনপ্রিয়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে 'ভিটামিন সি' যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। করোনা মহামারি সংক্রমণ রোধে ভিটামিন সি খুবই কার্যকরি। 

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়াও বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে ভিটামিন সি। তাই এর ঘাটতি পূরণে খাদ্য তালিকায় কাঁচা আম রাখা সবচেয়ে সহজলভ্য।

কাঁচা আম বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া গেলেও এর সঠিক পুষ্টিগুন পেতে শরবত খাওয়ার বিকল্প নেই। গরমে এক গ্লাস কাঁচা আমের শরবত খেলে যেন মুহূর্তেই শরীরে স্বস্তি দেয়। বিভিন্নভাবে কাঁচা আমের শরবত তৈরি করা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে সহজ একটি উপায় হলো 'কাঁচা আম ও পুদিনা পাতা' দিয়ে তৈরি শরবত। 

পুদিনা পাতা তাপ নিয়ন্ত্রণ করে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এর রস পিষে দু'তিন ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে পান করলে ক্লান্তিভাব দূর হয়। নিয়মিত পুদিনা পাতা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে বুকে কফ জমতে পারেনা। এতে থাকা ‘মেন্থল’ পেশিকে শিথিল করার মাধ্যমে শরীরের ব্যথা কমায়।

দীর্ঘদিন আয়রনের ঘাটতিতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়

দীর্ঘদিন আয়রনের ঘাটতিতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়

দীর্ঘদিন আয়রনের ঘাটতিতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়
আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মূল উপাদান গঠন করে। শরীরের আয়রনের পরিমাণ কমে গেলে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। অধিক রক্তশূন্যতার জন্য রক্ত নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। মহিলাদের পিরিয়ডে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গর্ভবতী মায়েদের রক্তশূন্যতার সমস্যা বেশি থাকলেও নারী-পুরুষ ভেদে সকলের আয়রন ঘাটতি হতে পারে।

আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো ক্লান্তি। কারণ তখন শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রনের অভাবে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন টিস্যু এবং পেশিতে পৌঁছায় না। শরীর ক্লান্তবোধ করে।

শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম হলে ত্বক ফ্যাকাশে দেখায়। এমন সমস্যায় অনেকের মুখ, মাড়ি, ঠোঁট, নিচের চোখের পাতা এবং নখও ফ্যাকাশে দেখায়।

দীর্ঘদিন এ সমস্যার চিকিৎসা করা না হলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, হৃদরোগজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। সময়মতো চিকিৎসা করানো না হলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁকি বাড়ে।

ত্বক-চুলের ক্ষতি রক্তে হিমোগ্লোবিনের অভাবে কোষগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ কম হয়। ত্বক, চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, চুল পড়া এবং নখ ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

কোলেস্টেরল কমায় ছাতুর শরবত

কোলেস্টেরল কমায় ছাতুর শরবত

কোলেস্টেরল কমায় ছাতুর শরবত
ছাতু আমাদের খাদ্য তালিকায় খুব পরিচিত না হলেও গবেষণায় দেখা গেছে ছাতু কোষ্ঠকাঠিন্যসহ পেটের সকল সমস্যার সমাধান করে। ছাতুতে থাকা প্রচুর ফাইবার বিপাক ক্রিয়া সহজ করে দিয়ে কোলন ক্যান্সার রোধ করে।

ছাতুর ফাইবার হার্টের কোলেস্টেরল কমায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই চিকিৎসকরা অবস্থা বুঝে অনেককেই নিয়মিত ছাতুর শরবত খাওয়ার পরামর্শ দেন। এতে হৃদরোগের আশঙ্কা কমে।

ছাতুতে প্রচুর উদ্ভিজ্জ প্রোটিন থাকায় রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। একই সঙ্গে এটি গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে বেশ তলার দিকে। ফলে এটি রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে দেয়। চিকিৎসকরা তাই ডায়াবিটিসের রোগীদের এই শরবত খাওয়ার পরামর্শ দেন।

চুল ভাল রাখতে ছাতু ভীষণ উপকারী। এতে থাকা নানা ভিটামিন ও খনিজের কারণে এটি ত্বক উজ্জ্বল করে। নিয়মিত ছাতুর শরবত ত্বক ও চুলের পুষ্টি যোগায়।

 

ঢেঁড়স খেলে দূরে থাকে ডায়াবেটিস

ঢেঁড়স খেলে দূরে থাকে ডায়াবেটিস

ঢেঁড়স খেলে দূরে থাকে ডায়াবেটিস
আমাদের সকলের পরিচিত একটি সবজি হলো ঢেঁড়স। এই ঢেঁড়সকে একটু অবহেলা করে দেখা হয়। কিন্তু পুষ্টি বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ঢেঁড়সের খাদ্যগুণ অনেক। 

পেটের কষ্ট থেকে মুক্তি দেয় এই ঢেঁড়স। এর ফাইবার হজমে বিশেষ সহায়তা করে। ঢেঁড়সে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, আছে ভিটামিন-এ। ফলে ঢেঁড়স চোখের জন্য খুবই উপকারী। 

নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে শরীরে জরুরি ইমিউনিটি সিস্টেম তৈরি হয়ে যায়। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ এড়াতে এটি খুবই সাহায্য করে। ঢেঁড়সে ভিটামিন-সি থাকায় তা ত্বকের ক্ষেত্রেও খুব উপকারী। ফলে গরমকালে ত্বক সুস্থ রাখতে ঢেঁড়স খুবই কার্যকরী। 

ঢেঁড়স ওজনও নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এটি ওজন কমায়। অ্যান্টি ওবেসিটি কোয়ালিটি রয়েছে বলেও ঢেঁড়সের কদর যথেষ্ট। 

ঢেঁড়স ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও খুব কার্যকরী। এখন প্রতি ঘরেই ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে। ফলে ঢেঁড়স ডায়াবেটিসে রোগীদের জন্য এখন খুবই জরুরি খাদ্যে পরিণত হয়েছে। 

ঢেঁড়সে কোলেস্টেরল লেভেল খুবই কম। ফলে ঢেঁড়স হৃদরোগীদের ক্ষেত্রেও উপকারী। ঢেঁড়স রক্তে লোহিত কণিকা বাড়াতেও সাহায্য করে।

রক্তে কোলস্টেরল কমিয়ে হার্ট ও লিভার সুস্থ রাখে তেঁতুল

রক্তে কোলস্টেরল কমিয়ে হার্ট ও লিভার সুস্থ রাখে তেঁতুল

রক্তে কোলস্টেরল কমিয়ে হার্ট ও লিভার সুস্থ রাখে তেঁতুল
অত্যাধিক ওজনের কারণে হার্ট, লিভার, কিডনির বিকল হয়ে পড়ে। তেঁতুল রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে উপকারী কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। 

গবেষণায় জানা যায়, ওজন কমাতে ও লিভারের সংক্রমণ রুখতে সাহায্য করে পাকা তেঁতুল। তেঁতুলের মধ্যে উপস্থিত নিকেল, ‌রুপো, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, প্রদাহ রোধে সাহায্য করে।

ত্বকের উন্নতিতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে তেঁতুল। তেঁতুল দীর্ঘদিন ধরে ন্যাচারাল স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আলফা হাইড্রোক্সিল অ্যাসিডের জন্য ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এটি। এতে থাকে টার্টারিক অ্যাসিড ও ল্যাকটিক অ্যাসিড যা  ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে।

তেঁতুলে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যাসিড, চিনি, ভিটামিন বি, এবং ক্যালসিয়াম। কাঁচা অথবা পাকা তেঁতুল খেলে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপ্রেসার তাৎক্ষণিকভাবে উপশম হয়।

তেঁতুলে টারটারিক অ্যাসিড থাকায় খাবার হজমে সহায়তা করে। পাকা তেঁতুল ভিজিয়ে রেখে সকালে শুধু পানি খেলে হাত-পায়ের জ্বালা কমে। পেটের বায়ু, হাত-পা জ্বালায় তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী। অত্যধিক জ্বর কমাতেও তেতুল কার্যকর। স্কেলিটাল ফ্রুরোসিস রোগের প্রকোপ হ্রাস করতেও তেঁতুল ব্যবহৃত হয়। 

গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায় পেঁপে

গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায় পেঁপে

গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায় পেঁপে
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পেঁপে খাদ্যতালিকার মধ্যে আমরা সবাই কম-বেশি রাখি। এতে প্যাপেইন নামক এনজাইম খাদ্যের বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। কিন্তু শারীরিক অবস্থা ও বয়সভেদে পেঁপে খাওয়া উচিত। 

বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে পেঁপে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসকরা গর্ভাবস্থায় নারীদের পেঁপে খাওয়া এড়ানোর পরামর্শ দেন। পেঁপের বীজ, শিকড় এবং পাতা গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর। প্রেগন্যান্সির প্রথম তিন মাস অবশ্যই কাঁচা পেঁপে সেদ্ধ, রান্নায় পেঁপে বা পাকা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। পরের দিকেও পেঁপে খেলে গর্ভপাত না হলেও রক্তপাত হতে পারে।

কাঁচা পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন দেহের ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত করে। পেঁপে ল্যাটেক্সসমৃদ্ধ, যা জরায়ুর সংকোচন, রক্তপাত এবং এমনকি গর্ভপাত ঘটাতে পারে।

এছাড়াও চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে, এক বছরের কম বয়সী শিশুদেরকে পেঁপে খাওয়ানো উচিত নয়। পেঁপেতে অনেক ফাইবার থাকে, যা ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ শিশুরা কম পানি পান করে। এতে তাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগতে হতে পারে। তাই কাঁচা অথবা রান্না কোন অবস্থাতেই শিশুদেরকে পেঁপে খাওয়ানো উচিত নয়।

ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও পেঁপে ক্ষতিকর হতে পারে। এতে থাকা নানা পুষ্টি উপাদান টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। তবে বেশি পরিমাণে পেঁপে খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বিপজ্জনক। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের পেঁপে খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যাদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা আছে তাদের জন্যও পেঁপে ক্ষতিকর। পেঁপেতে উপস্থিত একটি এনজাইমকে অ্যালার্জেন বলে। এর অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা যেমন হাঁপানির মতো সমস্যা বাড়তে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাধারণত পেঁপে খেতে বলা হয়। তবে অতিরিক্ত খেলে পেটে জ্বালা-পোড়া ভাব এবং ব্যথা হতে পারে। এতে উপস্থিত প্রচুর পরিমাণে ফাইবার হজম সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। গবেষণায় জানা গেছে, পেঁপে অতিরিক্ত খেলে ফোলাভাব, পেট ফাঁপা এবং বমিভাব হতে পারে।

একগুঁয়ে বাচ্চারাই পেশাজীবনে সফল হয় বেশি : গবেষণা

একগুঁয়ে বাচ্চারাই পেশাজীবনে সফল হয় বেশি : গবেষণা

একগুঁয়ে বাচ্চারাই পেশাজীবনে সফল হয় বেশি : গবেষণা
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, একগুঁয়ে বাচ্চারাই বড় হওয়ার পর পেশাজীবনে সফল হয় বেশি। ছয়জন বিজ্ঞানী ৯ থেকে ৪০ বছর বয়সী ৭০০'রও বেশি মানুষের ওপর এই জরিপ চালান। ডেভেলপম্যান্ট সাইকোলজি জার্নালে ২০১৫ সালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।

গবেষকরা জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নিয়ম ভাঙ্গার প্রবণতা, অধিকারের বোধ, বাবা-মায়ের সঙ্গে স্পর্ধা দেখানোর প্রবণতা এবং তারা পড়াশোনায় কতটা সময় ব্যয় করেছিলেন তাতে বিশেষ মনোযোগ দেন গবেষণাকারীরা।

গবেষণা শেষে গবেষকরা জানান, যারা শিশু বয়সে অভিভাবকদের অবাধ্য ছিল পেশাজীবনে এসে তারাই বেশি বেতনের চাকরি করছে।তবে অবাধ্য হওয়ার সঙ্গে বেশি বেতনের সম্পর্কটা কোথায় সেটির ব্যাখ্যা দিতে পারেননি গবেষকরা। জরিপে অংশ নেওয়া নিয়মভাঙা এই ব্যক্তিরা বেশি বেতনের চাকরি করছে কারণ শিক্ষাজীবন থেকেই তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ছিল এবং এরফলে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে চাকরির বাজারে তাদের চাহিদা বেড়ে যায়। 

তবে অর্থোপার্জনের জন্য এই শ্রেণির ব্যক্তিদের কারও কারও যে অসৎ পথে পা বাড়ানোর সম্ভাবনাও আছে জরিপে সেটিও নাকচ করে দেননি গবেষকরা। 

মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দেয় যে ৬ অভ্যাস

মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দেয় যে ৬ অভ্যাস

মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দেয় যে ৬ অভ্যাস
মাইগ্রেন এক বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা। মাথার যে কোনও এক পাশ থেকে শুরু হয়ে তা মারাত্মক কষ্টকর হয়ে ওঠে। মাইগ্রেনের যন্ত্রণা অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং দীর্ঘস্থায়ী। যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, তীব্র মাথা যন্ত্রণার পাশাপাশি তাদের বমি বমি ভাব, শরীরে এবং মুখে অস্বস্তিভাব দেখা দিতে পারে। এই ব্যথা টানা বেশ কয়েকদিন থাকে। তাই যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, তাদের এই ব্যথার জন্য দায়ী কিছু কাজ বা অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভাল। এতে মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হতে পারে।

১) পেট খালি রাখা: পেট খালি থাকলে মাইগ্রেনের ব্যথা বা সমস্যা শুরু হতে পারে। এর কারণ হলো- খালি পেটে থাকলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয় যা মাইগ্রেনের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

২) আবহাওয়া: অতিরিক্ত রোদে ঘোরাঘুরির কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত গরম, অতিরিক্ত আর্দ্রতার তারতম্যে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হয়ে থাকে।

৩) মানসিক চাপ: যারা অনেক বেশি চাপ নিয়ে একটানা কাজ করে চলেন এবং নিজের ঘুম ও খাওয়া-দাওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময় মেনে চলতে পারেন না, তাদের বেশি মাইগ্রেনে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। তাই মানসিক চাপ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। খুব মানসিক চাপে থাকলে এক কাপ লেবু চা খেয়ে নিন। এতে মস্তিষ্ক কিছুটা রিলাক্স হবে।

৪) অতিরিক্ত চিনি জাতিয় খাবার খাওয়া: আমরা যখন অনেক বেশি মিষ্টি খাবার খেয়ে ফেলি তখন আমাদের রক্তের সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ইনসুলিনের উৎপাদন হতে থাকে। যার ফলে রক্তের সুগারের মাত্রা নেমে যায়। এভাবে হঠাৎ হঠাৎ রক্তে সুগারের মাত্রার তারতম্য হওয়ার কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে।

৫) অতিরিক্ত আওয়াজ: অতিরিক্ত আওয়াজ, খুব জোরে গান শোনা ইত্যাদির কারণেও মাইগ্রেনের সমস্যা শুরু হয়ে যেতে পারে। প্রচণ্ড জোরে আওয়াজের কারণে প্রায় দু’দিন টানা মাইগ্রেনের ব্যথা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৬) অতিরিক্ত ঘুমানো: মাত্র এক দিনের ঘুমের অনিয়মের কারণে শরীরের উপরে খারাপ প্রভাব পড়তে পাড়ে। যেমন- যারা নিয়মিত মোটামুটি ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা করে ঘুমান, তারা যদি হুট করে একদিন একটু বেশি ঘুমিয়ে ফেলেন, সেক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হয়ে যায়।

হজমশক্তি কী, হজমশক্তি কেন বাড়ানো প্রয়োজন

 হজমশক্তি কী, হজমশক্তি কেন বাড়ানো প্রয়োজন

হজমশক্তি কী, হজমশক্তি কেন বাড়ানো প্রয়োজন
সব মানুষের হজমশক্তি একই ধরনের হয় না। একই ধরনের খাবার অনেকে হজম করতে পারেন না, অনেকেই সহজেই হজম করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য হজমশক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাধাগ্রস্ত হলে বা কোনো সমস্যা দেখা দিলে পুরো দেহই স্থবির হয়ে পড়তে পারে। পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমীন আক্তার বলেন, শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন না হলে তা পুরো দেহকেই প্রভাবিত করে। এতে ওজন বেড়ে যাওয়াসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

ইউনাইটেড হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম হাসিন বলেন, হজম প্রক্রিয়ার তিনটি ধাপ থাকে। এগুলো হচ্ছে খাবার খাওয়া, সেটা পরিপূর্ণভাবে হজম হওয়া, হজমের পর সেটা দেহে শোষণ হওয়া। এ তিনটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ। 

তার মতে, হজমের সমস্যা বলতে শুধু গ্যাসের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা ডায়রিয়াকে বোঝায় না। হজমশক্তির কারণে ওজন বৃদ্ধি, স্থুলতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। হজমশক্তি দুর্বল হলে ঠিকমতো খাবার খাওয়ার পরও শরীর ঠিকমতো পুষ্টি পায় না। 

১. কোন খাবারটি খেলে আপনার সমস্যা হচ্ছে সেটি খেয়াল করুন। একেবারেই সব খাবার বাদ দেওয়া যাবে না। আবার কিছু ভিটামিনের ঘাটতির কারণে হজমশক্তির সমস্যা হতে পারে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

২. শারীরিক ব্যায়াম : হজমশক্তি বাড়াতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করতে হবে।  

৩. খাবার: হজমশক্তি বাড়াতে খাবারের প্রকার বুঝতে হবে। হজমশক্তি বাড়াতে দই খুবই উপকারী। 

৪. পর্যাপ্ত ঘুম : হজমশক্তি বাড়াতে রাতের বেলা নির্দিষ্ট সময় ঘুমিয়ে পড়াটা জরুরি।  

৫. শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম : শারীরিক বিভিন্ন ক্রিয়া কতটা ভালোভাবে কাজ করবে তা অনেকটাই নির্ভর করবে শরীরে অক্সিজেনের পর্যাপ্ত সরবরাহের উপর। এজন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

রক্তের অসুখ পলিসাইথেমিয়া কী

 

রক্তের অসুখ পলিসাইথেমিয়া কী?

রক্তের অসুখ পলিসাইথেমিয়া কী?
ডা. গুলজার হোসেন। ফাইল ছবি
পলিসাইথেমিয়া রক্তের একটি বিশেষ অসুখ, যা এনিমিয়ার ঠিক উল্টো। এনিমিয়ায় হিমোগ্লোবিন কমে যায়। পলিসাইথেমিয়ায় যায় বেড়ে। ছেলেদের ক্ষেত্রে যদি হিমোগ্লোবিন ১৭.৫ গ্রাম/ডেসিলিটার এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৫.৫ গ্রাম/ ডেসিলিটারের বেশি হয়, তাহলে সেটাকে পলিসাইথেমিয়া বলে প্রাথমিকভাবে গণ্য করা হবে। 

পলিসাইথেমিয়ার কারণ ও ধরণ

দুরকম কারণে পলিসাইথেমিয়া হতে পারে। অস্থি মজ্জা বা স্টেম সেলের সমস্যাজনিত কারণে পলিসাইথেমিয়া হতে পারে। এটাকে বলে প্রাইমারি পলিসাইথেমিয়া বা পলিসাইথেমিয়া রুব্রা ভেরা। 

অপরটি হলো সেকেন্ডারি পলিসাইথেমিয়া। যদি শরীরের অন্য কোনো অসুখের প্রতিক্রিয়ায় পলিসাইথেমিয়া দেখা দেয় তবে তাকে বলে সেকেন্ডারি পলিসাইথেমিয়া। বিভিন্ন ধরনের টিউমার, কিডনির অসুখ, জন্মগত হার্টের অসুখ, এজমা বা সিওপিডিজনিত ফুসফুসের অসুখ ইত্যাদি কারণে রক্তের উৎপাদক হরমোন ইরাইথ্রোপোয়েটিন বেড়ে যেতে পারে। সেই ইরাইথ্রোপোয়েটিনের প্রভাবে রক্তের লোহিতকণিকা ও হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে পলিসাইথেমিয়া হতে পারে।

আরেকধরনের পলিসাইথেমিয়া আছে। সেটা হলো রিলেটিভ পলিসাইথেমিয়া। অর্থাৎ আসলে কোষের সংখ্যা বাড়েনি কিন্তু রক্তরসের অনুপাতে রক্তকোষের সংখ্যা বেড়ে গেছে। অতিরক্তি ধূমপান, মদ্যপান, মূত্রবর্ধক ওষুধ ইত্যাদি কারণে রক্তরস কমে গিয়ে রক্তকোষের আনুপাতিক বৃদ্ধি হতে পারে। 

পলিসাইথেমিয়া হলে কী হয়?

পলিসাইথেমিয়ায় রক্তকোষ বেড়ে গিয়ে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায়। ফলে মাথা ধরা, শ্বাসকষ্ট,  চোখে কম দেখা, চুলকানি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়। গরম পানিতে গোসল করলে গা বেশি করে চুলকায়।

পলিসাইথেমিয়ায় রোগীর চোখ-মুখ লাল হয়ে যায়। তাই এর নাম রুব্রা ভেরা। অবশ্য এশীয় মহাদেশীয় বাদামি ত্বকের রোগীর ক্ষেত্রে লাল হয়ে যাওয়ার বদলে বলতে হবে কালো হয়ে যায়। এ ছাড়া প্লীহা বড় হয়ে যায়, ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়, পেপটিক আলসার, জয়েন্টে ব্যথা ইত্যাদিও দেখা দিয়ে থাকে। 

রক্তের ঘনত্ব বাড়তে থাকলে বিপদও বাড়তে থাকে। রক্ত ঘন হয়ে আস্তে আস্তে রক্তের প্রবাহ ধীর হয়ে যায়। স্ট্রোক, হার্টঅ্যাটাক ইত্যাদির সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

রোগ নির্ণয়ে কী কী পরীক্ষা করা হয়?
 
রক্তের ফিল্ম (সিবিসি) পরীক্ষাতেই প্রাথমিকভাবে রোগটি ধরা পড়ে। হিমোগ্লোবিন ও পিসিভি বা হিমাটোক্রিটের মাত্রা দেখে রোগটির প্রাথমিক নিরূপণ করা হয়ে থাকে। এরপরের ধাপে দেখতে হয়ে সেকেন্ডারি কোনো কারণে এটি হয়েছে কি না। রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস সেক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাথে  টিউমার মার্কার পরীক্ষা, বুকের এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, হার্টের ইকোকার্ডিওগ্রাম, ইসিজি ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়। ইরাইথ্রোপোয়েটিনের মাত্রা পরীক্ষা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, যদিও আমাদের দেশে এর সুযোগ খুব কম। প্রাইমারি কারণ বা মজ্জার সমস্যাজনিত কারণে হয়েছে বলে মনে হলে বোনম্যারো পরীক্ষা ও বিশেষ জিনের মিউটেশন দেখার জন্য সাইটোজেনেটিক পরীক্ষা করা হয়। 

চিকিৎসা কী?

এই রোগের চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ। এর অন্যতম প্রধান চিকিৎসা ভেনিসেকশন। ভেনিসেকশন মানে হলো শিরায় সুঁই ফুটিয়ে রক্ত টেনে নিয়ে ফেলে দেওয়া। যেভাবে ব্লাড ডোনারদের থেকে রক্ত নেওয়া হয় সেভাবেই। তবে এই রক্ত কাউকে দান করা যাবে না। রোগের মাত্রাভেদে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সপ্তাহে একবার বা একাধিকবার ভেনিসেকশন করা যেতে পারে।

ওষুধের মধ্যে আছে হাইড্রোক্সিইউরিয়া, বুসালফেন। মিউটেসন স্টাডি করে পজিটিভ পাওয়া গেলে জ্যাকাফি নামক এক প্রকার ওষুধ দেওয়া যায়। তবে আমাদের দেশে এর ব্যবহার খুবই সীমিত। কারণ, এর দাম সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

একটু বেশি বয়সী যারা, তাদের ক্ষেত্রে রেডিও এক্টিভ ফসফরাস ব্যবহার করা যেতে পারে। বিভিন্ন কারণে এটিরও ব্যবহার সীমিত। 

রোগের পরিণতি
 
প্রাইমারি পলিসাইথেমিয়ার রোগী নিয়মমাফিক চিকিৎসা নিলে ও নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়নে থাকলে অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। পাঁচ শতাংশ রোগী পরবর্তীতে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। ২০-৩০ শতাংশ রোগী মাইলোফাইয়াব্রোসিস নামক এক প্রকার মজ্জার জটিল অসুখে আক্রান্ত হতে পারে। সেকেন্ডারি পলিসাইথেমিয়ার ক্ষেত্রে মূল যে রোগ সেটির চিকিৎসা করলে পলিসাইথেমিয়াও ভালো হয়ে যায়।

লেখক: রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

বার্ধক্যজনিত সমস্যা এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে সজনে ডাটা

বার্ধক্যজনিত সমস্যা এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে সজনে ডাটা

বার্ধক্যজনিত সমস্যা এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে সজনে ডাটা
সজনে এমন একটি গাছ যার ডাটা, পাতা ও ফুল সবই খাওয়ার উপযোগী ও উপকারি। এটি সস্তা এবং বহুল পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি সবজি।

সজনে শরীরের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে পুষ্টিবর্ধক হিসেবে কাজ করে ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এতে প্রায় ৯০টিরও বেশি এবং ৪৬ রকমের এন্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান। শরীরের ওজন কমাতেও ব্যায়ামের পাশাপাশি এটি বেশ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে।

সজনের এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য যকৃত ও কিডনি সুস্থ রাখতে এবং রূপের সৌন্দর্য বর্ধক হিসেবেও কাজ করে থাকে। এতে প্রায় ৯০টিরও বেশি এবং ৪৬ রকমের এন্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান।

এছাড়াও ৩৬টির মত এন্টি-ইনফ্ল্যামমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে যা অকাল বার্ধক্যজনিত সমস্যা দূর করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এটি শরীরে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।

নিয়মিত দৈনিক সেবন শরীরের ডিফেন্স মেকানিজমকে শক্তিশালী এবং ‘ইমিউনিটি স্টিমুল্যান্ট’ করে। শরীরের ওজন কমাতেও ব্যায়ামের পাশাপাশি এটি বেশ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে।

কোভিড ব্যবস্থাপনায় যে দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ

কোভিড ব্যবস্থাপনায় যে দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ

কোভিড ব্যবস্থাপনায় যে দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণএক. যদিও কোভিড ওয়ার্ডগুলিতে তিল ধরনের ঠাঁই নাই অনেক রোগী সুস্থ হবার পরেও অযথাই পড়ে থাকে তার টেস্ট নেগেটিভ হল কিনা সেটা দেখার জন্য। অনেক সময় চাপে বাধ্য হয়ে, অনেক সময় অবোধগম্য কারণে ডাক্তাররাও তাকে আবারও টেস্ট করতে পাঠায়। শুধু একবার নয় বারবার যতদিন টেস্ট নেগেটিভ না আসে। অথচ সুস্থ হয়ে যাওয়ার পরও নেগেটিভ আসতে ৪০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে কারো কারো। এই টেস্ট নেগেটিভ হওয়াটা ডিসচার্জ হওয়ার জন্য জরুরি নয়। বিশেষ করে যারা কেবিনে থাকে এবং যাদের প্রভাবশালীর রেফারেন্স থাকে তাদের কারো কারো সামনে টেস্ট নেগেটিভ হওয়ার আগেই বাসায় যান বলাটা অনেকটাই দুঃসাহসের পর্যায়ে চলে যায়। যিনি অনেক কষ্টে অনেককে ধরাধরি করে একটি সোনার হরিণ কেবিন/বেড ম্যানেজ করলেন তিনি সুস্থ হওয়ার পরও সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক একটা কারণে টেস্ট নেগেটিভ হলে তারপরে যাবে বলে বেড দখল করে বসে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে অনেক সিরিয়াস রোগী যার আসলেই ভর্তি ও অক্সিজেন দরকার তারা ফেরত যাচ্ছে। আমরা এমনই স্বার্থপর একটা জাতি। 

কোভিড রাউন্ডের সময় আমি যতই বোঝাই পরবর্তী কোভিড টেস্টগুলি একেবারেই অপ্রয়োজনীয়, সুস্থ হওয়ার পরেও টেস্ট পজিটিভ আসতে পারে, এজন্য আপনার সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না, আপনি অন্য সবদিক দিয়ে বাড়ি যাবার মতো অবস্থায় আছেন, তাছাড়া এই অপ্রয়োজনীয়' টেস্টগুলির কারণে যাদের আসলেই রোগ ডায়াগনোসিসের জন্য টেস্ট করার প্রয়োজন তারা বঞ্চিত হচ্ছে-  তারা সেটা বুঝতে চায় না। বলে বাসায় লোকজন আছে নেগেটিভ না হলে কীভাবে যাই? লক্ষণ দেখা দেওয়ার দুই সপ্তাহ পরে সে অন্য কারো জন্য আর কোনো হুমকি নয়- সেটা বোঝালেও বুঝেনা। বেশি বুঝাতে গেলে বেশিরভাগ রোগীই সত্য মিথ্যা যাই হোক মেডিকেলের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অথবা মেডিকেলের বাইরের কোনো প্রভাবশালী মহল/কর্মকর্তাদের রেফারেন্স দিয়ে বলে আমি তার আত্মীয় রোগী। সো কাউন্সেলিং ডিসমিস। 

দুঃখজনক ব্যাপার হলো গত এক বছর ধরে একইভাবে রোগীদের একটা বিরাট অংশ সবাই টেস্ট করে করে তারপরে বাড়ি যাচ্ছে, এই অবস্থার কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। তারা একটা ডেড স্পেস এর মতো জায়গা দখল করে রাখছে। দূর থেকে মনে হবে রোগী,  আসলে তার অনেক আগেই বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল, শুধু গায়ের জোরে দখল করে রেখেছে এই গো ধরে যে নেগেটিভ হওয়ার আগে সে যাবে না।

কোভিড টেস্ট পজিটিভ হলে রোগ সেরে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন (৪০ দিন পর্যন্ত) পরবর্তীতে টেস্ট পজিটিভ আসতে পারে। ভাইরাসের ভগ্নাংশের জন্য পরবর্তীতে পজিটিভ হয়, আসল ভাইরাসের জন্য নয়। তাই দ্বিতীয়বার বা বারবার কোভিড টেস্ট করানোর কোনই প্রয়োজন নেই। এই অযথা টেস্টের কারণে অনেকে প্রথমবারে টেস্ট করারও সুযোগ পায় না।

দুই. ভেন্টিলেটর নয়, কোভিড রোগীদের জন্য আমাদের মূল মনোযোগ দেয়া উচিত রোগীকে যাতে ভেন্টিলেটর পর্যন্ত যেতে না হয় সেদিকে। আমাদের দরকার অক্সিজেন, অক্সিজেন আর অক্সিজেন। অক্সিজেন কীভাবে আরও বেশি মাত্রায় দেয়া যায় সেসব যন্ত্রপাতি। যেমন আরও আরও সেন্ট্রাল অক্সিজেন, High Flow nasal Cannula। 

ওয়ার্ডগুলি সয়লাব করে দিতে হবে Highflow Nasal Cannula (HFNC) দিয়ে। HFNC এর অভাবে চাহিদা মাফিক পর্যাপ্ত অক্সিজেনের স্বল্পতায় কারো লিভার, কিডনি, ব্রেন নষ্ট হয়ে যেন আইসিইউতে কল পাঠাতে না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে আগে। এতে করে যে রোগীরা ICU তে যাওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি করছেন তাদের বেশিরভাগই আসলে ওয়ার্ডেই ম্যানেজ হয়ে যাবে।
তারপরও কিছু রোগী থাকবে যাদের মাল্টি অর্গান ফেলিওর হবে, ভেন্টিলেটর লাগবে কিন্তু সংখ্যাটা যাবে অনেক কমে। এই HFNC, পাইপলাইনে অক্সিজেন- এসবের পিছনে অর্থ খরচের চেয়ে সর্বোত্তম খরচ এ মুহূর্তে আর কোনটিতেই হতে পারে না।

কোভিড রোগীদের বেলায় Invasive ventilation তেমন জীবনরক্ষাকারী নয় আসলে। শতকরা হার এককের ঘরে, কখনো কখনো শূন্য।

When pt develops indications of invasive ventilaton that also almost indicates death ahead with or without this machine.
So prevention (HFNC in wards) is better than Cure ( Ventilator in ICU).


লেখক: এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (চেস্ট),
বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

নবজাতকের যত্ন

নবজাতকের যত্ন   অধ্যাপক ডা. শাহীন আক্তার  অনলাইন ভার্সন নবজাতক শিশু একটি পরিবারের আনন্দের বার্তাবাহক! নবজাতকের সঠিক যত্ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত...

Contact Form

Name

Email *

Message *