Translate

Saturday, March 1, 2025

নবজাতকের যত্ন

নবজাতকের যত্ন

 অধ্যাপক ডা. শাহীন আক্তার
 অনলাইন ভার্সন
নবজাতকের যত্ন
নবজাতক শিশু একটি পরিবারের আনন্দের বার্তাবাহক! নবজাতকের সঠিক যত্ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ এ ব্যাপারে কিছু কথা লিখব।

প্রথমত শিশুর যত্নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হচ্ছে জন্মের পর পরই বুকের দুধ পান করাতে শুরু করা। অনেক অভিভাবক বা মুরুব্বি মনে করেন যে বুকে যেহেতু দুধ নামেনি, সেহেতু শিশুকে বুকে লাগানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু চিকিৎসকগণ বলে থাকেন, জন্মের পর পর যত দ্রুত সম্ভব এমনকি মায়ের গর্ভফুল প্রসব হওয়ার আগেই বাচ্চাকে মায়ের বুকে লাগাতে হবে। 

আমরা জানি, শিশুর জন্মের পর পরই প্রথম এক-দুই দিন বুকের দুধ নামে না। তখন ঘন হালকা হলুদ রঙের যে শাল দুধ বের হয় সেটি পুষ্টিগুণে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় অত্যন্ত উচ্চমানসম্পন্ন। আমরা জন্মের পরপরই শিশুকে বুকের দুধে লাগাব এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে শুরু করব এতে মার বুকে দুধের প্রবাহ বাড়বে এবং শিশুটিও দ্রুত দুধ খাওয়া শিখে যাবে এবং মায়ের বুকের দুধ জমে বুক শক্ত হয়ে যাবে না, মা অনায়াসে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন।

শিশুর যত্নে দ্বিতীয় যে জিনিসটি লক্ষ্য রাখতে হবে তা হচ্ছে শিশুকে উষ্ণ রাখা। শিশুকে একটি মোটা তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে না রেখে আমরা কয়েক স্তরে নরম সুতি কাপড় দিয়ে পেঁচাবো। অতিরিক্ত রঙচঙে, জরিযুক্ত বা সিনথেটিক কাপড় দিয়ে শিশুকে পেঁচানো উচিত নয়। বাজার থেকে কাপড় কিনে এনে সরাসরি শিশুকে না পরিয়ে, কাপড়টি যেন ধুয়ে রোদে শুকিয়ে তারপর পরানো হয়।

পরবর্তী যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব সেটি হচ্ছে নাভির যত্ন। চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত ধাত্রী বা সেবিকা যে-ই থাকুন না কেন, প্রসবের পর পরই বাচ্চার নাভিটিকে একটি জীবাণুমুক্ত ব্লেড দিয়ে কাটবেন এবং দুটি জীবাণুমুক্ত ক্ল্যাম্প বা সুতা দিয়ে নাভিটিকে বেঁধে দিবেন। এরপর, নাভিতে একবার একটি ঘন স্পিরিট লাগিয়ে দিতে হবে।

বাসায় আনার পরে আমরা লক্ষ্য রাখব নাভিতে যেন কোনো ধরনের সেঁক দেওয়া না হয়। এছাড়া কোনো মলম বা স্পিরিট দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। নাভিটিকে শুকনো পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নাভি ঝরে পড়ে যাওয়ার পরেও নাভিমূলে কোনো রকম সেঁক বা মলম দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

এরপরে যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব তা হচ্ছে শিশুর ত্বকের যত্ন। আমরা শিশুর ত্বকে সরিষার তেল, বিভিন্ন রকমের তেল বা লোশন মেখে থাকি। সরিষার তেল কিন্তু ত্বকের যত্নের জন্য উপকারী নয়, তা যত খাঁটিই হোক না কেন। অলিভ অয়েল শিশুর ত্বকের যত্নে সবচেয়ে ভালো তেল। 

শিশুকে আমরা যে কোনো একটি বেবি সোপ দিয়ে গোসল করাব এবং গোসলের আগে বা পরে অলিভ অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করব। আমরা মাঝেমধ্যে সকালের নরম রোদে শিশুকে দিতে পারি, আবার লক্ষ্য রাখতে হবে খোলামেলা রাখার ফলে যেন ঠান্ডা না লেগে যায়।। নবজাতকের চোখে বা ভ্রুতে কাজল দেওয়াটা পরিহার করতে হবে, কেননা এতে চোখে জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে। 

শিশুর যত্নের ব্যাপারে আরেকটি কথা আমরা বলে থাকি, তা হচ্ছে শিশুকে দেখতে অনেক আত্মীয়স্বজন যেন ঘরে ভিড় না করেন। কেননা আত্মীয়স্বজনের মধ্যে অনেকের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বা ত্বকের সংক্রমণ থেকে থাকে। তা থেকে নবজাতক শিশুটির ত্বকের এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন অসুখ হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় জানাতে চাই, তা হচ্ছে শিশুর বিপদ চিহ্নসমূহ। যে লক্ষণগুলো দেখলে আমরা একটি নবজাতক শিশুকে অসুস্থ মনে করব সেগুলোই বিপদচিহ্ন। তার মধ্যে প্রথম যে লক্ষণটি কথা আমরা বলি সেটি হচ্ছে শিশুর শরীর গরম হয়ে যাওযা বা জ্বর আসা (১০০ ডিগ্রি বা তার বেশি) অথবা শিশুর শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া (৯৭ ডিগ্রির কম)। 

এছাড়া আমরা যদি দেখি শিশু খাবার খেতে পারছে না বা খাবার খেতে আগ্রহী না বা শিশু ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছে প্রতি মিনিটে ৬০ বারের বেশি বা বুকের খাঁচা ভেঙে যাচ্ছে অথবা শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ছে, কোনো রকম নড়াচড়া করছে না বা খিঁচুনি হচ্ছে অথবা শিশুর শরীরে জন্ডিস দেখা যাচ্ছে যাতে হাত-পায়ের তালু পায়ের তালু হলুদ হয়ে গেছে, তখন আমরা বুঝে নেব যে শিশুটি মারাত্মক অসুস্থ এবং তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।

শিশুর যত্ন প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ব্যাপার আমি বলতে চাই, তা হচ্ছে প্রসূতি মায়ের যত্ন। প্রসব-পরবর্তী অনেক মা খুব অসহায়বোধ করেন। মাকে পরিপূর্ণ মানসিক সাপোর্ট দেওয়া জরুরি। মায়ের খাবারটি যেন সুষম খাবার হয় আমাদের সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। অনেক সময় প্রসূতি মা নিজের শারীরিক সমস্যা এবং শিশুর যত্নে ব্যস্ত থাকার কারণে ঘুমাতে পারেন না। আমরা পরিবারের সবাই মিলে মাকে ঘুমানোর সুযোগ করে দিব। 

পরিশেষে বলা যেতে পারে, নবজাতকের যত্নের মূল কথাগুলো হচ্ছে প্রসবের পরপর অতি দ্রুত বুকের দুধ পান করানো এবং শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো, শিশুকে উষ্ণ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ত্বকে অতিরিক্ত প্রসাধনে কাজল পাউডার ইত্যাদি ব্যবহার বর্জন করা, নাভি শুকনা ও পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বিপদ চিহ্নগুলো লক্ষ্য রাখা। এই কয়েকটি ব্যাপার যদি আমরা লক্ষ্য রাখে তাহলে আমরা সঠিকভাবে একটি নবজাতকের বৃদ্ধি বা নবজাতকের যত্ন নিশ্চিত করতে পারব 

শিশুদের হার্টের রোগ কাওয়াসাকি ডিজিজ

শিশুদের হার্টের রোগ কাওয়াসাকি ডিজিজ

 ডা. ইমনুল ইসলাম ইমন
 অনলাইন ভার্সন
শিশুদের হার্টের রোগ কাওয়াসাকি ডিজিজ

জাপানি এক চিকিৎসক ডা. তমিসাকু কাওয়াসাকি ১৯৬৭ সালে সর্ব প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন। এবং পরবর্তীতে উনি একটি জার্নালে এই রোগ সম্পর্কে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন। কাওয়াসাকি ডিজিজ এই রোগটি আসলে একটি রক্ত নালির রোগ। এবং এটি একটি বিরল রোগ। কিন্তু বর্তমানে শিশুদের জন্মগত হার্টের রোগ, বাতজ্বরজনিত হার্টের রোগ এর পরেই এই রোগটির স্থান বলে পরিগণিত হয়েছে। 

আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের চারপাশে দিনদিন এই রোগটির রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণত ৫ বছরের নিচের শিশুদের দুই-তিন বছরের মধ্যে এই রোগটি বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এই রোগে সাধারণত ছেলে শিশুরায় বেশি আক্রান্ত হয়। 

এই রোগের বিস্তারের একটা সময়কাল আছে। সাধারণত শীতের শেষে ও বসন্তের সময় কালে এই রোগটি আমরা বেশি শনাক্ত করতে পারি। এই রোগটি একটি বিশেষ বয়সের রোগ এবং একটি বিশেষ সময়ে দেখতে পাওয়া যায়। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই রোগটির দেখা যায় তবে এসিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এটি বেশি মাত্রায় দেখা যায়। যেমন জাপানে এই রোগটি সব থেকে বেশি পরিমাণে দেখা যায়, তার পরে তায়ওয়ান কোরিয়াতেও এই রোগটি দেখতে পায়া যায়। পাশাপাশি আমরা যদি উন্নতবিশ্বে ইউরোপ আমেরিকার দিকে তাকায় সেখানেই এই রোগটি বেশ ব্যাপক হারে শনাক্ত হচ্ছে। 

রোগটির কারণ কী 

কারণ হিসাবে যে বিষয়টি আসছে সেটা হচ্ছে শরীরের প্রোটিন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এই রোগটি হয়ে থাকে। কখনো কখনো কোন কোন জীবাণুর প্রভাবের কারণেও এই রোগটি দেখা যায়। এবং একই সঙ্গে জেনেটিক কারণেও এই রোগটিতে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। 

কীভাবে এই রোগটি শনাক্ত করা যায়

এই রোগটির মূল বিষয় হচ্ছে অবশ্যই শরীরে জ্বর থাকবে, জ্বর ০৫ দিনের বেশি স্থায়ী হবে এবং আরও কিছু লক্ষন সুষ্পষ্টভাবে প্রকাশ পেলেই আমরা মনে করতে পারি শিশুটি হয়তোবা কাওয়াসাকি ডিজিজে আক্রান্ত হতে যাচ্ছে। আমরা যদি উপর থেকে দেখি, জ্বরের সাথে প্রথমেই যে জিনিসটি দেখব তা হলো তার চোখগুলো লালচে হয়ে গেছে, তবে সেখানে কোনো পুঁজ থাকবে না। ঠোঁটগুলো লাল, ফাঁটা ফাঁটা, জিহ্বাটাও বেশ লালচে দেখা যায়। এবং এত লালচে যে দেখলে মনে হবে যেন স্ট্রবেরির মতো। 

গলার পেছনটা বেশ লালচে হয়ে দগদগে হয়ে থাকে। একই সঙ্গে গলার চারপাশে যে লসিকা গ্রন্থিগুলো আছে সেগুলো একটু ফুলে যেতে দেখব। যে কোনো এক সাইট, ডান অথবা বাম সাইট বেশ ফুলে থাকে। যেটার সাইজ প্রায় ১.৫ সেন্টিমিটারের বেশি হতে পারে। শরীরজুড়ে এক ধরনের ফুসকুটি বা র‌্যাশ বামরা বুকে পেটে হাতে দেখতে পাব। তার হাত পাগুলো একটু ফোলা ফোলা বেশ লালচে হয়ে দেখা যায়। 

আমরা এই বিরল রোগটি নিয়ে কেন কথা বলছি। আমরা কিন্তু শুরুতেই বলেছি বর্তমানে শিশুদের এটি অন্যতম একটি হার্টের রোগ। হার্টের কী ধরনের জটিলতা করে যার কারণে এই রোগ সম্পর্কে আমাদের সম্মুখ ধারণা থাকা প্রয়োজন। আমরা আগেই বলেছি, এটা একটা রক্তনালির রোগ। হার্টের যে করোনারি রক্তনালি আছে, সেই রক্তনালিগুলো ফুলেফেঁপে গিয়ে ছিঁড়ে যেতে পারে, অনেক সময় রক্ত প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। যার কারনে হার্টের মধ্যে বিভিন্ন রকমেন প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। 

পাশাপাশি হার্টের যে বিভিন্ন মাংসপেশি আছে যেমন আমরা বলি পেরিকাডায়টিস। হার্টের বাইরের যে আবরণ এখানেও কিন্তু ফুলে যেয়ে পানি জমতে পারে, আমরা বলি মায়োকাডাইটিস হার্টের যে বিভিন্ন মাংসপেশি সেখানেও আক্রান্ত করে নাড়ির যে গতি আছে সেখানে নাড়ির গতির অসমঞ্জস্যতা তৈরি করে। আমরা এটাকে বলি এরিগনা তৈরি করে। হার্টের যে একদম ভিতরের লেয়ার, আমরা বলি এন্ডোকার্ডায়টিস, সেখানে যে বিভিন্ন ভাল্ব থাকে সেখানেও সে বিভিন্ন রকমের প্রদাহের কারণ সৃষ্টি করে। হার্টের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে সে প্রভাব বিস্তার করে না। হার্টের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশেও এর প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়। 

এই রোগের চিকিৎসা কি বা কিভাবে শনাক্ত করব

এই রোগের যে লক্ষণগুলো আমরা আগেই বলেছি সেগুলো যদি কারও শরীরে এই লক্ষনগুলো প্রকাশ পায় তাহলে কিন্তু আমরা সহজেই এই রোগটি শনাক্ত করতে পাব। এই রোগের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরিক্ষা আছে যে পরীক্ষা নিরিক্ষাগুলো করে আমরা জানতে পারি যেয এই রোগটি অন্য কোনো ইনফেকশন না অন্য কোন ভাইরাস জনিত রোগ না সেটা আমরা পৃথক করতে পারবো। তারপরে সেক্ষেত্রে আমরা জরুরিভাবে আমরা হার্টের ইকো পরীক্ষা করে তার করোনারী ভেসেল, হার্টের বিভিন্ন যে লেয়ারগুলো আমরা আলোচনা করলাম সেগুলো আক্রান্ত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমরা পরিপূর্ণ ধারনা পেতে পারবো। 

এই রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি 

এই রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি বেশ ব্যয়বহুল। চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যয় বহুল হলেও এই রোগের চিকিৎসার বিকল্প কোন পদ্ধতি নাই যেটা। এই দাদী ওষুধটার নাম হচ্ছে ইন্টার ভেনাস ইমিউনোগ্লোবুলিন। এই ওষুধটি একবারই প্রযোগ করা হয় এবং এতে করে সারা জীবনের জন্য এই রোগটি তার মধ্যে থেকে ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৯০ ভাগের বেশি। 

কোনও কোনও ক্ষেত্রে দেখা যায় যে এই দামী ওষুধ দেওয়ার পরেও রোগটি তার শরীরে থেকে যায়। তখন দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কটিড স্টেরয়েড ইঞ্জেকশন এবং কিছু কিছু বায়োলজিক্যাল ওষুধ প্রচলিত আছে যেগুলো দিলে আমাদের শিশু পুরোপুরি ভাবে পরিত্রাণ পেতে পারে। চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যয় বহুল হলেও আমরা বারবার বলছি এই রোগটি আমাদের শিশুদের বাকি জীবনজুড়ে হার্টের বিভিন্ন রকম অসুবিধা ও জটিলতা নিয়ে জীবন পার করবে। তাই এই রোগটি শনাক্ত হলে আমাদের শিশুদের এই ওষুধ দিয়েই আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে। 

এই রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তার একটি সুনির্দিষ্ট সময় কাল ধরে এই রোগের জন্য ফলোআপ করতে হবে। এই ফলোআপের উদ্দেশ্য হলো এই রোগের কারনে তার হৃদযন্ত্রের কারনে কোন জটিলতা রেখে গেল কিনা সেটা পর্যবেক্ষণ করা। সেই পর্যবেক্ষণ কাল আমাদের প্রায় এক বছরজুড়ে ফলোআপ করতে হবে এবং ফলোআপ শেষে যে বিষয়টা আসবে সেটা হলো সে সম্পূর্ণভাবে ভালো হয়ে গেছে। 

এই চিকিৎসার কারণে তার প্রাত্যহিক জীবনে কোনো ব্যত্যয় হবে না, তার স্কুল, তার লেখাপড়া, খেলাধুলাই কোনো অসুবিধা হবে না। কিছু টিকা দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিবন্ধকতা থাকে সেটা আপনার চিকিৎসকই আপনাকে অবহিত করবেন যে কি কি টিকা কতদিন পর্যন্ত দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এত সময় আমরা কাওয়াসাকি রোগ সম্পর্কে জানলাম। যা বর্তমানে শিশুদের হার্টের একটি অন্যতম রোগ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে এবং দিন দিন শনাক্তের হারও বাড়ছে। 

যদিও এই রোগের চিকিৎসা অত্যান্ত ব্যয় বহুল। কিন্তু এই রোগের চিকিৎসার ফলে শিশুটি হৃদযন্ত্রজনিত জটিলতা থেকে বেঁচে থাকবে এবং তার পরবর্তী জীবন সে স্বাচ্ছন্দ্যে পার করতে পারবে। সুতরাং এই রোগটি সম্পর্কে সচেতন থাকি, সতর্ক হয় এবং দ্রত শনাক্ত করতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেয়। 

সোরিয়াসিস নিয়ে আর নয় আতংক

সোরিয়াসিস নিয়ে আর নয় আতংক

 ডা. মো. মোশাররফ হোসেন
 অনলাইন ভার্সন
সোরিয়াসিস নিয়ে আর নয় আতংক

সোরিয়াসিস কাদের হয় এবং কেন হয়?

এ রোগ যে কোনো বয়সে হতে পারে তবে সাধারাণত ২৫-৩০ বছর বয়সে বেশি হয়। নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। এটা একটা ওসসঁহড়ষড়মরপধষ উরংবধংব তবে বংশগত ইতিহাস এবং নিকট আত্মীয়দের থাকতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে এ রোগ বাড়ে। গর্ভাবস্থায় সাধারণত এ রোগ কমে যায়। ঝঃৎবঢ়ঃড়পড়পপর জীবাণু দিয়ে গলার প্রদাহ হলে এ রোগ দেখা দিতে পারে। 

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এ রোগ হতে পারে বা বাড়তে পারে। যেমন-

১। ব্লাড প্রেসারের ওষুধ
২। দাউদের ওষুধ
৩। চর্বি কমার ওষুধ
৪। মানসিক রোগের ওষুধ ও অন্যান্য ওষুধ সেবন এ রোগ বাড়তে পারে।

সোরিয়াসিস রোগের লক্ষণ কী বা কীভাবে চিনবেন যে এটা সোরিয়াসিস?

এ রোগ সাধারণত মাথা বা কনুই থেকে শুরু হয় তবে যে কোন জায়গায় হতে পারে। মাথা, কনুই, হাঁটু, কোমর, নখ ইত্যাদি জায়গায় বেশি হয়। প্রথমে লালচে স্পট দেখা যায়, যার উপরিভাগে শুরু থেকেই মাছের আঁশের মতো চামড়া থাকে। আঁশতুলে নিলে সামান্য রক্তপাত হয় । সাধারণত বেশি চুলকায় না তবে রসুনের কোয়ার মতো চামড়া উঠে।

কীভাবে এ রোগ নির্ণয় করা যায়?

খুব সহজেই এ রোগ নির্ণয় করা যায়। ডাক্তার ক্লিনিক্যালি দেখেই রোগ নির্ণয় করতে পারেন। এ রোগ যে সব স্থানে হয় তার বিস্তৃতি, মাছের আঁশের মতো চামড়া, আঁশযুক্ত চামড়া সরানোর পর সহজেই এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

সোরিয়াসিস রোগের চিকিৎসা কি?

এ রোগের আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যমান। সময় মতো দীর্ঘমেয়াদে সঠিক চিকিৎসা নিলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে বা রোগ মুক্ত হয়ে সুস্থ জীবনযাপন করা যায়।

সোরিয়াসিস রোগে সাধারণত যে সব চিকিৎসা দেওয়া হয়

১। ক্রিম বা মলম।
২। খাবার ওষুধ।
৩। ফটোথেরাপি ও স্টেরয়েড ইনজেকশন 
৪। তৈলাক্ত মাছ ও স্থানীয়ভাবে তাপ দিলে কিছুটা উন্নতি হয়।

পরিশেষে বলব সোরিয়াসিস অন্যান্য চর্ম রোগের মতো একটি সাধারণ চর্ম রোগ। এটা ছোঁয়াচে নয় এবং এর আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যমান।  চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা নিলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বা রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। আসুন আমরা সাধারণ জনগণকে এ ব্যাপারে সচেতন করি এবং সুস্থ জীবনযাত্রায় সহায়তা করি। ‘সুস্থ জীবন, সুন্দর পৃথিবী’  

ঘাড় ব্যথায় সহজ ব্যায়াম

ঘাড় ব্যথায় সহজ ব্যায়াম

 ডা. এম ইয়াছিন আলী
 অনলাইন ভার্সন
ঘাড় ব্যথায় সহজ ব্যায়াম
অনেকেই আছেন হঠাৎ হঠাৎ ঘাড়ের ব্যথায় ভোগেন। কারও কারও সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড়ে ব্যথা হয়। তারা ভাবেন ঘুমানোর সময় অসাবধানতা কিংবা বালিশের কারণে এমন হয়। ঘাড় ব্যথা হলে অবহেলা না করে কিছু ব্যায়াম করতে পারেন, যেগুলো এমন ব্যথা এড়াতে দারুণ কার্যকর। 

জেনে নিন এমন কিছু ব্যায়ামের নিয়মকানুন। তবে খেয়াল রাখবেন, শরীরে কোনো ব্যথা থাকা অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ব্যায়াম করা যাবে না।

ব্যায়াম ১

এই ব্যায়ামটি করতে পারেন বসা বা দাঁড়ানো অবস্থায়।

প্রথমে ঘাড় ও পিঠ সোজা রাখুন।
এরপর থুতনি নামিয়ে আনুন বুকের কাছাকাছি।
১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকুন।
এরপর ঘাড়ের পেশি শিথিল করে ধীরে ধীরে মাথা ওপরে তুলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন।
এবার থুতনি ওপরের দিকে তুলুন যতটা সম্ভব। এই অবস্থায় ১০ সেকেন্ড থাকুন। এরপর আবার শুরুর অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন।

এভাবে রোজ একবেলা নির্দিষ্ট সময়ে ১০ বার ব্যায়ামটি করুন।

ব্যায়াম ২

এই ব্যায়ামটি করতে হবে দাঁড়ানো অবস্থায়, পা দুটো সামান্য ফাঁকা রেখে। হাত দুটি দুই পাশে ঝোলানো অবস্থায় রাখতে পারেন।

ডানদিকে মাথা কাত করুন, কান দিয়ে কাঁধ ছুঁতে চেষ্টা করুন। ঘাড়ের পেশিতে টান অনুভব করা অবধি এই চেষ্টা চালিয়ে যান। তবে ঘাড় ওঠাবেন না।
৫ থেকে ১০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকুন।
এবার শুরুর অবস্থায় ফিরে আসুন।
একইভাবে ব্যায়ামটি করুন বাম দিকেও।

পুরো ব্যায়ামটি ১০ বার পর্যন্ত করতে পারেন, রোজ একবেলা। ব্যায়ামটিকে আরও কার্যকর করে তুলতে যখন যে পাশে ঘাড় কাত করবেন, সেই পাশের হাতটি তুলে আনতে পারেন মাথার ওপরে, আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিন মাথায়।

ব্যায়াম ৩

এই ব্যায়ামটি করতে পারেন বসা কিংবা দাঁড়ানো অবস্থায়।

প্রথমে ঘাড় ও পিঠ সোজা রাখুন।
এবার ডানদিকে (নামাজে সালাম ফেরানোর মতো করে) ঘাড় ঘোরান, যতক্ষণ না ঘাড়ের পেশিতে টান অনুভব করেন।
১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকুন। এরপর শুরুর অবস্থায় ফিরে আসুন। একইভাবে ব্যায়ামটি করুন বামদিকে ঘাড় ঘুরিয়েও।

পুরো ব্যায়ামটি ১০ বার পর্যন্ত করতে পারেন, রোজ এক বেলা।

Saturday, April 15, 2023

মেয়েদের কেন প্যান্টি পরতে হয়?

 মেয়েদের কেন প্যান্টি পরতে হয়?

১। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্যঃ মেয়েরা পেন্টি তাদের গোপন অঙ্গের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে।

০২। পশ্চাৎ ভাগের আকৃতি ঠিক রাখার জন্য ঃ মেয়েদের পিছনের অংশের আকার ঠিক ধরে রাখতে পেন্টি সাহায্য করে ।

৩। কোন প্রকার ময়লা বা জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত না হয় সেজন্যঃ নারিদের গোপন অঙ্গ যেন কোন প্রকার ময়লা বা জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত না হয় সেজন্যও মেয়েরা পেন্টি ইউজ করে। বাহ্যিক অনেক ময়লা জীবাণু থেকে পেন্টি মেয়েদের দূরে রাখে।

৪। পিরিয়ডের সময় প্যাড পড়ার জন্য পিরিয়ডের সময় প্যাড পড়া পেন্টি অনেক সহজ করে দেয়।

০৫। নিজের নিরাপত্তার জন্য। দুর্বল মুহূর্তে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পেন্টি কাজ করতে পারে।

পেন্টি পড়ার উপকারিতা পেনটি পরার উপকারিতা

০১। কম্ফোরট ফিল করতে পারবেন। চলাচলের সময় অস্বস্তি বোধ করবেন না।

০২। পিছনের আকার ঠিক ভাবে ধরে রাখতে পেন্টি ইউজ করুন উপকারিতা পাবেন।

মেয়েরা পেন্টি কেন ব্যবহার করে

০৩। যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটলেও নিজের সম্মান কিছুটা হলেও রক্ষা পাবেন।

০৪। দুর্বল সময়ে নিরাপত্তা পেতে পেন্টি কিছুটা হলেও সাহায্য করে।

০৫। পিরিয়ড এর সময়, ময়লা জীবাণু থেকে রক্ষা এসব এর কথা তো উপরে একবার বললাম ই । সেগুলোই পেন্টি পড়ার উপকারিতা ।

Saturday, November 19, 2022

স্তনের ঝুলে পড়া রোধে করণীয় কী?

স্তনের ঝুলে পড়া রোধে করণীয় কী?



শারীরিক গঠন ফিট না থাকলে মন খারাপ হতেই পারে। নারীর ক্ষেত্রে এই মন খারাপের কারণ হতে পারে স্তন ঝুলে যাওয়া নিয়ে। অল্প বয়সেই অনেক নারীর স্তন ঝুলে যাওয়ার সমস্যায় পড়তে হয়। এর অনেকগুলো কারণও আছে। তবে কারণ ও সমাধান জানা থাকলে এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।



স্তন ঝুলে যাওয়ার কারণ:শরীরের গঠনের তারতম্যের কারণে স্তন ঝুলে যেতে পারে। শরীর মোটা থেকে চিকন বা চিকন থেকে মোটা হওয়ার কারণে স্তন ঝুলে যেতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত ব্যয়ামও স্তন ঝুলে যাওয়ার একটি কারণ।

সন্তান জন্মদানের কারণে অর্থাৎ প্রসূতিকালীন স্তনের আকার বড় হয়ে যাওয়ার কারণে স্তন ঝুলে যায়। আবার স্তন অতিরিক্ত বড় ও ভারী হওয়ার কারণেও ঝুলে যেতে পারে।

বয়সের কারণে স্বাভাবিকভাবেই স্তন ঝুলে যায়। অপ্রতুল স্তন-সার্পোটের কারণেও স্তন ঝুলে যায়। ধূমপানের চামড়ার স্থিতিস্থাপকতা দুর্বল করে দেয় যা স্তন ঝুলে যেতে সাহায্য করে।

মেডিসিন:-

1)

ডোজ:-10 ফোটা 1/2 কাপ জলসহ। (কাঁচের গ্লাস /চিনামাটির কাপে খাবেন) দিনে দুইবার । (3–6 মাস )

ব্যাহিক প্রয়োগ :- নারকেল তেল পরিমান মতো + sabal serrulata-Q পরিমান মতো (নারকেল তেল 20 ড্রপ + মেডিসিন 10 ড্রপ)।

=} রাত্রে ব্রেস্টে মালিশ করে , টাইট ড্রেস পরে ঘুমাতে হবে।

—————————————————————————————

2)

ডোজ:- দুই চামচ করে দিনে তিনবার। (6 মাস)

সকালে দুটো ডিম সেদ্ধ খেতে হবে।

—————————————————————————

যদি ঝুলে গিয়েই থাকে, তাহল তাকে ফিট রাখার উপায়ও আছে। জেনে নিন কয়েকটি উপায়:

সঠিক ব্রা ব্যবহার: আপনি অবশ্যই এমন ব্রা পরুন যা আপনার স্তনকে সম্পুর্ন সাপোর্ট দেয়। লক্ষ রাখতে হবে আপনার ব্রা অবশ্যই আপনার সাথে সাবলীল ভাবে চলতে পারে- অর্থাৎ চলার সময় আপনার ব্রা লেইস যেন কাঁধ থেকে খসে না পড়ে অথবা বন্ধনি অতিরিক্ত টাইট কিংবা অতিরিক্ত লুজ না হয়। যখন ব্রা সাইজ নেবার জন্য মাপতে যাবেন, অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার পুরাতন ব্রা পরনে থাকতে হবে এবং সে অবস্থায় স্তনের ঠিক নিচে মাপ নিচ্ছেন। এছাড়া কিছু ব্যায়ামও করতে পারেন-

মেডিসিন বল স্ল্যাম: দু’হাতে একটা মেডিসিন বলকে ধরুন। মাথার ওপরে বলটা ধরে তুলুন। হাঁটু সামান্য ভাঁজ করতে পারেন। এবার বলটাকে যত জোরে সম্ভব মাটিতে আছড়ে ফেলুন। আবার তুলে তিনটে সেটে করে মোট তিনবার করুন। আপনি বলটাকে যখন মাটিতে আছড়ে ফেলবেন,তখনই কিন্তু আপনার বুকের ব্যায়াম হয়। যত জোরে আছড়ে ফেলবেন,ততই বেশি আপনার পেশী কাজ করবে। তাই বুকের পেশীকে টোন করতে এই ব্যায়ামটা করেই ফেলুন নিয়ম করে।

পুশ আপস: ঝুলে যাওয়া স্তনকে আবার তার টোনড শেপে ফিরিয়ে আনতে পুশ আপস কিন্তু বেশ কার্যকরী। উপুড় হয়ে সোজা হয়ে শোন। হাত দুটো বগলের পাশে ভাঁজ করে রাখুন। পেটটা টান করে রাখবেন। এবার হাতের ওপর ভর দিয়ে পুশ আপস করুন। যতবার পারেন,ততবারই করবেন। নিয়ম করে করুন। আপনার স্তনকে টোনড করতে শুধু নয়, কাঁধের পেশীকে শক্তিশালী করতেও এই পুশ আপস দারুণ কাজ দেয়।বাড়িতে বসে খুব সহজেই করতে পারবেন।

ট্রাইসেপ ডিপস: একটা বেঞ্চে বসে হাত দুটো আপনার পাশে রাখুন। পা ছড়িয়ে টান করে রাখুন। এবার হাতদুটো আগের জায়গাতেই রেখে বেঞ্চ থেকে নিজেকে তুলুন। আস্তে আস্তে কনুই ভাঁজ করে নিজেকে মেঝের কাছে নিয়ে যান। এভাবে যতক্ষণ পারবেন করুন। আস্তে আস্তে সময় বাড়াবেন। এভাবে নিয়মিত করবেন। এই ব্যায়াম আপনার ট্রাইসেপের ওপর জোর দিলেও বুকের পেশী আর হাতের মাসলকেও কিন্তু টোনড রাখতে সাহায্য করে। আর বাড়িতে করাও খুব সোজা।

ডাম্বেল ফ্লাইস: সোজা হয়ে শুয়ে পরুন। এবার হাতদুটোকে কনুই ভাঁজ করে বুকের কাছে এনে রাখুন। দু’হাতে দুটো ডাম্বেল যেন থাকে। বেশি ওজন তোলার দরকার নেই। হাঁটু ভাঁজ করে রাখবেন। এবার হাতদুটো ছড়িয়ে সোজা করে আস্তে করে খুলুন। আবার আগের ভাঁজ করা অবস্থায় আনুন। এভাবে যতক্ষণ পারবেন করুন। বুকের পেশীকে টান করে ঝোলা স্তনকে নিজের শেপে ফিরিয়ে আনতে এই ব্যায়াম ট্রাই করুন।

মেডিসিন বল পুশ আপস: পুশ আপ পোজিশনে শোন। তবে এবার মাটিতে হাত রাখার বদলে হাত দুটো একটা মেডিসিন বলের ওপরে রাখুন। এবার পুশ আপ করতে শুরু করুন। একটা হাত মাটিতে আর একটা হাত বলের ওপরে আধা মিটার দূরত্বে রেখে পুশ আপ করুন। ১০-২০ বার করে তিনটি বা চারটি সেটে কমপ্লিট করুন। নিয়ম করে করবেন। ঝুলে যাওয়া স্তনকে টোনড অ্যান্ড ফিট করার জন্য এটি পারফেক্ট ব্যায়াম। আর ঘরে বসেই সহজে করতে পারবেন। তাহলে এবার দেরি না করে আজ থেকেই শুরু করুন নিজেকে পারফেক্ট শেপে ফিরিয়ে আনার অভিযান।

Saturday, September 24, 2022

মাথার চুল ঘন করার বা নতুন চুল গজানোর মতো কোনো উপায় আছে কি

মাথার চুল ঘন করার বা নতুন চুল গজানোর মতো কোনো উপায় আছে কি

ভিটামিন ই কেপসুল খেতে পারেন। এটি বয়সভেদে 200mg আর 400 mg হয়। আপনি প্রতি রাতে একটি করে

1.cap :E-cap 200mg (0+0+1)

3 মাস খেতে পারেন।

আর একটি লিকুইড আছে ,,

এটি ব্যাবহার করতে পারেন। এটি square বা অন্যান্য company এর আছে। এটি fermecy তে অর্ডার দিয়ে নি তে হবে।

Sunday, September 4, 2022

কোন মেয়েদের সেক্স চাহিদা বেশি

 কোন মেয়েদের সেক্স চাহিদা বেশি

নারী পুরুষ যৌনতার ব্যাপার সবসময়ই অতিরঞ্জিত একটা ব্যাপার। এই ব্যাপারে মতামতও মানুষের ভিন্ন। যৌনতার ক্ষেত্রে কখনও এরকমও শোনা যায় যে নারীদের যৌন আকাঙ্খা পুরুষদের থেকে অনেক গুণ বেশি। আবার কখনও এটাকে ভুল প্রমাণ করেও দেখানো হয়ে থাকে। কিন্তু এসব ছাড়াও যৌনতার ইতিহাস আজ থেকে নয় সেই আদিম থেকেই চলে আসছে এর ধারা। আর এখনও পর্যন্ত সারা বিশ্বব্যাপী চলছে সুস্থ এবং স্বাভাবিক যৌনতা।

তবে, একটা কথা মাথায় রাখা দরকার যে যৌনতা সবসময় স্বেচ্ছায় সংঘঠিত মিলন। এরূপ অন্যথা হলে সেটা আর যাইহোক সুস্থ যৌন সম্পর্ক একেবারেই নয়। ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো নারী কোনো পুরুষের সাথে কিংবা কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে যৌনতায় লিপ্ত হতে পারেননা। আর এর পাশাপাশি এটাও স্বাভাবিক যে সবার যৌন বাসনা বা আগ্রহ এক হয়না।

নারীদের কথাতেই যদি এক্ষেত্রে আসা যায় তবো দেখা যায় যে যৌনতা প্রসঙ্গে প্রত্যেক নারীর ইচ্ছে সমান হয়ে থাকেনা। কোনো কোনো নারী অত্যাধিক যৌন কাতর হয়ে থাকেন। আবার পুরুষদের ক্ষেত্রেও, কোনো কোনো পুরুষের যৌন ইচ্ছা থাকে বেশি অর্থাৎ যৌনতার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ এবং যৌন মিলনের ইচ্ছা থাকে ব্যাপক।

আবার কোনো কোনো নারী-পুরুষ সুস্থ যৌনতার পক্ষপাতি এবং তারা প্রয়োজন মাফিক যৌন মিলন পছন্দ করে। আবার কিছু কিছু নারী-পুরুষ যৌ’নতাকে খুবই কম মাত্রায় পছন্দ করে। অনেকের এ ব্যাপারে ভীতিও থাকে। যৌ’নতার ব্যাপার বিশেষ করে নারী, পুরুষের যৌ’নতার ব্যাপারে উৎসাহ এবং আগ্রহ যদি না থাকে তবে চরম পুলক আসতে পারে না।

নারীদের যৌনইচ্ছার সময়সীমা : ১. মেয়েদের যৌন চাহিদা ছেলেদের ৪ ভাগের এক ভাগ। কিশোরী এবং টিনেজার মেয়েদের যৌ’নইচ্ছা সবচেয়ে বেশী। ১৮ বছরের পর থেকে মেয়েদের যৌ’ন চাহিদা কমতে থাকে, ৩০ এরপরে ভালই কমে যায়।২. ২৫ এর উর্দ্ধে মেয়েরা স্বামীর প্রয়োজনে যৌনকর্ম করে ঠিকই কিন্তু একজন মেয়ে মাসের পর মাস যৌ’নকর্ম না করে থাকতে পারে কোন সমস্যা ছাড়া।৩. মেয়েরা রোমান্টিক কাজকর্ম যৌনকর্মের চেয়ে অনেক বেশী পছন্দ করে। বেশীরভাগ নারীরা গল্পগুজব হৈ হুল্লোড় করে যৌ’নকর্মর চেয়ে বেশী মজা পায়।৪. মেয়েরা অর্গ্যাজম করে ভগাংকুরের মাধ্যমে।৫. ভগাংকুরের মাধ্যমে অর্গ্যাজমের জন্য যৌনকর্মের কোন দরকার নেই।৬. শারীরিক মিলনে নারীরা উত্তেজিত আর আনন্দিত হন ঠিকই কিন্তু অর্গ্যাজম হওয়ার সম্ভাবনা ১% এর চেয়েও কম।

Tuesday, May 24, 2022

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে যেসব খাবার

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে যেসব খাবার

শরীরে অগ্ন্যাশয় যদি যথার্থ ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীরে ইনসুলিনের সঠিক কাজ ব্যাহত হয় তাহলে তাকে ডায়াবেটিস বলা হয়। এ রোগে আক্রান্তদের ঘন ঘন প্রস্রাব হয়; অধিক তৃষ্ণার্ত অনুভব করে এবং বারবার মুখ শুকিয়ে যায়। আক্রান্তরা অতিশয় দুর্বলতা, সার্বক্ষণিক ক্ষুধা, স্বল্পসময়ে দেহের ওজন হ্রাস, চোখে ঝাপসা দেখাসহ নানা সমস্যায় ভোগে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক কয়েকটি খাবার নিয়ে আলোচনা করা হলো।

সবুজ চা : সবুজ চা মানুষের শরীরে ইনসুলিনের মতো কাজ করে; ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ওয়াইল্ড স্যামন : ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অন্যতম একটি ঔষধী খাদ্য ওয়াইল্ড স্যামন। এতে উচ্চমাত্রায় ওমেগা-৩ রয়েছে। ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি বড় উৎস এটি। ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁঁকিও কমায় ওয়াইল্ড স্যামন।

মাছ : গবেষণায় দেখা যায় মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি গ্লুকোজের ঘনত্ব কমিয়ে ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করে। এতে চর্বিহীন প্রোটিন রয়েছে।

ডিমের সাদা অংশ : ডিম পেশি গঠনকারী খাদ্য। এতে উচ্চমানের প্রোটিন রয়েছে। ডিমের সাদা অংশে উচ্চমানের চর্বিহীন প্রোটিন ও কম মাত্রায় কার্বোহাইড্রেট রয়েছে যা দুই ধরনের ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।

লেবু : লেবু ও লেবুজাতীয় ফল ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে ভিটামিন সির অভাবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রয়েছে। তবে লেবুজাতীয় ফল খেলে ভিটামিন সির অভাব পূরণ হয়। জাম্বুরা, কমলা, লেবু ও লাইমস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিনের মতো কাজ করে।

সবুজ শাকসবজি : সবুজ শাকসবজি দুই ধরনের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়। পালং শাক, পাতাকপি, শালগম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লেটুসপাতা ইত্যাদি খাবারে ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম। গবেষণায় বলা হয়, সবুজ শাকসবজি খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে

ডায়াবেটিস : রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে করণীয়

ডায়াবেটিস : রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে করণীয়

ডায়াবেটিস : রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে করণীয়

প্রতীকী ছবি

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে জীবনে থাবা বসায় ডায়াবেটিস। অতএব সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই পারে টাইপ-২ ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করতে। যে কোনও বয়সের ব্যক্তিই এখন আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়াবেটিসে। যদিও ছোটরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়, যেখানে শরীর নিজে থেকে ইনসুলিন উৎপাদন তৈরি করতে পারে না। অন্যদিকে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা। 

সুস্থ জীবনযাত্রার প্রধান শর্ত হলো- শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালোরি মেপে খাওয়া। এক কথায় ডায়েটে নিয়ন্ত্রণ। আর দ্বিতীয়টা হল নিয়মিত যোগব্যায়াম করা। বাধা ধরা নিয়মের বাইরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না এখানে। সুস্থ থাকতে গেলে, রোগকে দূরে রাখতে হলে এই দুইটি শর্ত আপনাকে মেনে চলতেই হবে। সাধারণত ওষুধ খেয়ে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কিন্তু লাইফস্টাইল মেনে না চললেই বিপদ।

ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ডায়েটের দিকে নজর দিতে হবে। কিন্তু আলাদা করে কোনও খাবার খাওয়ার দরকার নেই। দৈহিক উচ্চতা অনুযায়ী শারীরিক ওজন ঠিক থাকলে ভাত, রুটি, সবজি, মাছ অর্থাৎ সুষম খাবার খেলেই চলবে। বেশি পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খান। সুতরাং ব্রেকফাস্ট-লাঞ্চ-ডিনারে সবজি বাদ দেবেন না। সবজিতে ক্যালোরির পরিমাণ থাকে অল্প। ফলে শরীরে ক্যালোরি কম ঢোকে। এছাড়া পেটও ভর্তি থাকে। উপরন্ত এমন ফল ও সবজি খান যেটায় শর্করার ভাগ কম এবং ফাইবারের পরিমাণ বেশি। মৌসুমি ফল ও সবজির সাহায্য নিতে পারেন এই ক্ষেত্রে। এর পাশাপাশি প্রসেস ফুড এবং ফাস্ট ফুড খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

ব্যস্ত জীবনযাত্রায় আলাদা করে ব্যায়াম করার সময় নেই। অনেকের আবার জিমে যাওয়ার সময় নেই। যদিও ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে এত কিছু করার প্রয়োজন পড়ে না। যাদের বাড়িতে হাঁটার উপযোগী ছাদ আছে তারা সেখানেই হাঁটুন। কতক্ষণ হাঁটবেন? ৪৫ মিনিট। এছাড়া বাড়িতে কোনও একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন। এমনকি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ডান পা, বাম পা ওপরে তুলে-নামিয়েও এক্সারসাইজ করা যায়। ঘাম ঝরানো যায় ওঠ-বোসের মতো এক্সারসাইজের সাহায্যেও। যাদের হাঁটুতে সমস্যা আছে তারা দেহের ওপরের অংশের ব্যায়াম করতে পারেন। মনে রাখবেন, সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট এক্সারসাইজ করলে ভাল হয়। সকাল এবং বিকেল-  দুইবেলা সময় ভাগ করে এক্সারসাইজ করলেও উপকার পাবেন।

নবজাতকের যত্ন

নবজাতকের যত্ন   অধ্যাপক ডা. শাহীন আক্তার  অনলাইন ভার্সন নবজাতক শিশু একটি পরিবারের আনন্দের বার্তাবাহক! নবজাতকের সঠিক যত্ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত...

Contact Form

Name

Email *

Message *